মূল অংশে যান
উসুলি
সব লেখায় ফিরে যান চিন্তালাপ ও সাম্প্রতিক

দ্বীনের প্রকৃত মেজাজ ও মানহাজ : মৌলিক পরিভাষার ব্যবহার

U Usulii.net 07 Sep 2026
দ্বীনের প্রকৃত মেজাজ ও মানহাজ : মৌলিক পরিভাষার ব্যবহার

দ্বীনের প্রকৃত মেজাজ ও মানহাজ : মৌলিক পরিভাষার ব্যবহার।

_____উসতায তাইব হোসেন

দ্বীনসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে বিরোধিতা-খণ্ডন বা আপত্তির ক্ষেত্রে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত ধর্তব্য এবং তাঁরা কেন ও কী কারণ-ইল্লাত দেখিয়েছেন সেটা সামনে রাখা জরুরি। মূলত উলামায়ে কিরামের কথা দলিল নয়, বরং দলিল বুঝতে তাঁদের শরণাপন্ন হতে হয়। একে তাকলিদ বা ইত্তিবা যা-ই বলা হোক না কেন, এটাই চিরায়ত নিয়ম। যে জানে না, সে জ্ঞানীদের থেকে জেনে নেবে।

দ্বীনি ক্ষেত্রে কুফফারপ্রণীত আধুনিক অনেক শব্দ বা পরিভাষা আত্তীকরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিভাষার আনুষঙ্গিক জড়িত উপাদান ও প্রেক্ষিত বিবেচনা খুব জরুরি। সালাফ কিংবা উলামায়ে কিরামের উদ্ভাবিত পরিভাষার দিকটা ভিন্নতার দাবি রাখে। তুলনাযোগ্য হয় না। আবার অনেক পরিভাষা ব্যবহার হয়, কিন্তু তা দ্বীনি পরিভাষার বিকল্প হিসেবে না।

দ্বীনের মৌলিক পরিভাষার সাথে দ্বীন জড়িত। আপনি তাওহিদ শব্দটা উচ্চারণ করলেই দেখবেন যে, এর আনুষঙ্গিক বিভিন্ন উপাদান মন-মস্তিষ্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চিত্রিত হচ্ছে। কুফর বিত-তাগূত পরিভাষা উচ্চারণ করলে আনুষঙ্গিক উপাদান চলে আসবেই।

দ্বীন ও তাওহিদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে এ জন্যই মৌলিক পরিভাষার ব্যবহার জরুরি। এমন শব্দ বা পরিভাষা ব্যবহারের দ্বার বা দরজা খোলা অনুচিত। নাহয় দ্বীনের মূল মেজাজের সাথে মানুষ দ্বীনকে রিলেট করতে ব্যর্থ হবে। নব-পরিভাষার মাধ্যমে যেন দ্বীনি মূল পরিভাষাগুলোর স্থলাভিষিক্ত না ঘটে। যেন এগুলোই স্থান না করে নেয়।

আমরা যেন এই ধোঁকায় না পড়ি মানুষ আমাদের কী-না-কী মনে করে। এই সাময়িক মাসলাহাত যেন আমাদের ধোঁকা না দেয়। দাওয়াহ, ইমান, কুফর, তাওহিদ, তাগূত, শিরক, ইত্যাদি শব্দ আমাদের রচনাবলি বা লিটারেচারে প্রচুর ব্যবহৃত হওয়া চাই। এ ক্ষেত্রে হীনমন্যতায় ভোগা যাবে না। এটাই এই পথের চাহিদা, এই পথের বাস্তবতা।

অনেকেই আবার খোদ শব্দ নিয়েই বিরোধিতা শুরু করেন। বক্তা কী বোঝাতে চান, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। এ থেকেও বিরত থাকা জরুরি। সমস্যা হবে তখন, যখন শব্দ বা পরিভাষাকে দ্বীনি কোনো পরিভাষার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

অনেকেই আবার এক বাক্যে বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ধর্মঘট ইত্যাদির ঢালাও বিরোধিতা করেন। এ নিয়ে আরব বসন্ত পরবর্তী আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসির কাছে প্রশ্ন করা হয়। শাইখ এ নিয়ে বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি দুটোই উল্লেখ করেন। নিয়মের ভেতর এই মাধ্যমগুলোর যৌক্তিক ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি তোলে ধরেন। আমাদের ভাইয়েরা এ ব্যাপারে ঢালাও নেতিবাচক অবস্থান নেন, অপরপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে আর সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন না। শাইখুনা আল-মাকদিসি এও উল্লেখ করেন যে, এসব আন্দোলনের দরজা তিনি অবাধে খোলার পক্ষপাতী নন।

তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো, প্রাচীন বা আধুনিক এমন যেকোনো মাধ্যম, যা কুফরি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে, দুর্বল করতে, আতঙ্কিত করতে বা তাদের জুলুম থেকে পিছু হটতে বাধ্য করতে ভূমিকা রাখে, তা শরয়িভাবে বৈধ। এটি মুনকার বা অন্যায় পরিবর্তন এবং যালিম শাসকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাধারণ দলিলের অন্তর্ভুক্ত। শর্ত হলো, সেই মাধ্যমে কোনো কুফরি কাজ, শিরক বা স্পষ্ট গুনাহ থাকতে পারবে না।

আধুনিক মাধ্যমের মাঝে শক্তির ব্যবহার, সশস্ত্র বিপ্লব, ইদারাতুত তাওয়াহহুশ, গেরিলা যুদ্ধ উল্লেখের সাথে সাথে শাইখুনা আল-মাকদিসি বিক্ষোভ, আইন অমান্য আন্দোলন, গণজমায়েত এবং কর্মবিরতি বা ধর্মঘটও এনেছেন, যা শাসনব্যবস্থার স্তম্ভগুলোকে অচল করে দেয় এবং একে নড়বড়ে করে তোলে।

প্রাসঙ্গিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শাইখ জেলজীবনের এক সুন্দর কাহিনীও তুলে ধরেন। মোদ্দাকথা, সবগুলো বিষয় তার আপন অবস্থানে রাখা জরুরি। হুট করে মুতলাকান বিদআত, হারাম ইত্যাদি কথাবার্তা বিরত থাকা যেমন জরুরি, তেমনিভাবে সাথে অবাধ বৈধতার দ্বার উন্মোচনের ব্যাপারেও সাবধান থাকতে হবে, যা তাওহিদকে বিকৃত করা কিংবা আকিদাহর স্বচ্ছতাকে ধোঁয়াশাপূর্ণ করে ফেলে। তা যেন দ্বীনি যেকোনো আন্দোলনকে দ্বীনের মূল মেজাজ ও সালাফবুঝ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে। আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফিক দিন।

মন্তব্যসমূহ (0)

মন্তব্য করতে লগইন করুন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!